PC Header Top Ads

Type Here to Get Search Results !

Display Responsive Ads

মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রের গঠন ও কাজ বর্ণনা কর।

 মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রের গঠন ও কাজ বর্ণনা কর।


মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রের গঠন ও কাজ বর্ণনা কর।


ক্ষুদ্রান্ত্রের গঠনঃ


ক্ষুদ্রান্ত পাকস্থলীর পরবর্তী নিলাকার আংশ, এটি দৈর্ঘ্যৈ প্রায় ৬-৭ মিটার, এর ব্যাস ৩.৫-৪.৫ সেন্টিমিটার। ক্ষুদ্রান্ত্রটি তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। যেমন- ডিওডিনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াস।


ক) ডিওডিনাম বা গ্রহণীঃ

এটি পাকস্থলী সংলগ্ন অংশ এবং 'U' আকৃতি বিশিষ্ট। এটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৫-৩০ সেন্টিমিটার। এই অংশে সাধারণ পিত্তনালি ও অগ্ন্যাশয় নালি উন্মুক্ত থাকে।


খ) জেজুনাম বা মধ্য অন্ত্রঃ

এটি ডিওডিনামের পরবর্তী নলাকার অংশ। এটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২-৩ মিটার হয়।


গ) ইলিয়ামঃ

এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশে, যা বৃহদন্ত্রের সঙ্গে সংলগ্ন থাকে। এটি দৈর্ঘ্যে প্রায়ৎ৩-৪ মিটার হয়। ইলিয়াম যেখানে বৃহদন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে ঐস্থানে ইলিওসিকাল ভালব বলে।



ক্ষুদ্রান্ত্রের কাজঃ


ক্ষুদ্রান্ত্রে খাদ্যের পরিপাক ও শোষণ উভয়ই ঘটে।


১. শোষণঃ  জল, ভিটামিন, খনিজলবন এবং পচিত সরল খাদ্য সমূহ এখানে শোষিত হয়। শর্করা ও প্রোটিনের সরল অংশ রক্তবাহে এবং ফ্যাটের সরল অংশ লসিকাবাহে প্রবেশ করে।


২. খাদ্যবস্তু গ্রহণঃ পাকস্থলী থেকে অর্ধপাচ্য খাদ্য পাকমন্ডকে গ্রহন করে।

৩. আন্ত্রিকরস ক্ষরণঃ ক্ষুদ্রান্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে অবস্থিত আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে আন্ত্রিকরস ক্ষরিত হয়। আন্ত্রিকরস খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয়।


৪. পরিপাকঃ ক্ষুদ্রান্তে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট পাচিত হয়। এখানে আন্ত্রিক রসে অবস্থিত উৎসেচক অ্যামাইলোজ, মলটেজ, ল্যাকটেজ, সুক্রেজ, ইরিপসিন, লাইপেজ থাকে।


উৎসেচকগুলির খাদ্য পরিপাকে ভূমিকা হল-


(i) অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে মলটোজে পরিণত করে।

(ii) মলটেজ মলটোজকে গ্লুকোজে পরিণত করে।

(iii) ল্যাকটেজ ল্যাকটোজকে গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজে পরিণত করে।

(iv) সুক্রেজ গ্লুকোজকে গ্লুকোজ ও ফ্রাকটোজে পরিণত করে।

(v) ইরিয়াসিন প্রোটিনকে অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিণত করে।

(vi) লাইপেজ ফ্যাটকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।


৫. রেচনঃ ক্ষুদ্রান্ত্র গুরুধাতু, উপক্ষার, অপসরন করে রেচনে সহায়তা করে।


৬. বিচলনঃ ক্ষুদ্রান্ত্রে বিচলনের ফলে খাদ্যের সঙ্গে উৎসেচকের মিশ্রণ, পাচিত খাদ্যের শোষণ এবং অপাচ্য খাদ্যের নিন্মগতি সহজ হয়।


৭. রক্ত শর্করা শোষণঃ রক্ত শর্করা শোষণে ক্ষুদ্রান্ত্র বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে। একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যান্ত (ঘন্টায় ১.৮৪ গ্রাম) ক্ষুদ্রান্ত্র গ্লুকোজ শোষণে সমর্থ। অধিক শর্করা শোষণে অসমর্থ।


৮. অম্ল ও ক্ষারের সাম্যঃ রক্তের পি.এইচ. মাত্রা বজায় রাখতে ক্ষুদ্রান্ত্রের বিশেষ ভূমিকা আছে। রক্তে ক্ষার বেশি হলে ক্ষারকীয় ফসফেট ক্ষুদ্রান্ত্রে নিঃসৃত হয় এবং জলের সঙ্গে দেহ থেকে নির্গত হয়। রক্তে অম্লের মাত্রা বেশি হলে ক্ষারকীয় ফসফেট ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে রক্ত শোষিত হয়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Ads Section